ছবি সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্ক : অস্ট্রেলিয়ার সিডনি শহরের Campbelltown-এ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে “একুশে মেলা ও আন্তর্জাতিক বইমেলা ২০২৬” আয়োজনকে সামনে রেখে এক তথ্যবহুল সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। “Preserve and Conserve Mother Languages” প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে আয়োজিত এ সম্মেলন ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে প্রবাসীদের এক তাৎপর্যপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
গত বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টায় ক্যাম্পবেলটাউনের ২এ/২৬৩ কুইন স্ট্রিটে অবস্থিত Alif Dining-এ এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজক সংগঠন Subcontinent Friends of Campbelltown-এর সভাপতি পারভেজ খান স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে সম্মেলনের সূচনা করেন। তিনি বলেন, আসন্ন একুশে মেলা ও আন্তর্জাতিক বইমেলা প্রবাসে সকল মাতৃভাষাভাষী মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হবে। বইমেলা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে ভাষা ও সাহিত্যচর্চার এক অনন্য পরিবেশ সৃষ্টি করা হবে।
একুশে মেলার প্রধান সংগঠক কায়সার আহমেদ অনুষ্ঠানের সার্বিক প্রস্তুতি ও দিনব্যাপী কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরেন এবং সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। তাকে সহায়তা করেন ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য আব্দুস সোবহান, শাফিন রাশেদ ও মিলি ইসলাম।
তিনি জানান, আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি বেলা ১টায় উদ্বোধনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হবে। বেলা ১টা ১০ মিনিটে বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে বিভিন্ন সংগঠনের অংশগ্রহণে প্রভাতফেরি ও প্রতীকী স্মৃতিসৌধে পুষ্পার্ঘ অর্পণ অনুষ্ঠিত হবে। বেলা ২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত থাকবে লেখক ফোরামের আড্ডা। বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা চলবে। বিকেল ৪টায় শিশুদের মাঝে সনদপত্র ও মেডেল বিতরণ এবং বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হবে। রাত ৯টা পর্যন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলবে।
আবহাওয়া বৈরী হলে সংলগ্ন গ্রেগ পারসিভাল কমিউনিটি সেন্টারে বিকল্প আয়োজন রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিক ও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের মধ্যে মাতৃভাষা ও সংস্কৃতিচর্চা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন Campbelltown City Council-এর কাউন্সিলর মাসুদ চৌধুরী। তিনি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা স্মৃতিসৌধ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের প্রশংসা করে দ্রুতই তা বাস্তবায়িত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত অতিথিদের জন্য নৈশভোজের আয়োজন করা হয়। সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলন সফলভাবে সম্পন্ন হয়।
সূএ : বাংলাদেশ প্রতিদিন








